বেলুড় রাসবাড়ি

বেলুড় রাসবাড়ি

 

পূর্ণচন্দ্র দাঁ প্রতিষ্ঠিত বেলুড় রাসবাড়ি

শহর কলকাতার বিখ্যাত বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো গুলির মধ্যে অন্যতম জোড়াসাঁকোর শিবকৃষ্ণ দাঁ বাড়ি দুর্গোৎসব| দাঁ পরিবারের আদি নিবাস ছিল বর্ধমানের সাতগাছিয়া।
সেখান থেকে কলকাতায় এসে জোড়াসাঁকো অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন শ্রীগোকুল চন্দ্র দাঁ। শুরু করেন লোহা গন্ধক কাঠ কয়লার ব্যবসা। গোকুল চন্দ্র দাঁয়ের পুত্র শিবকৃষ্ণ দাঁ পারিবারিক ব্যবসাকে আরো সমৃদ্ধ তো করলেনই , সেই সঙ্গে আসানসোলে রেললাইন তৈরির বরাত পেলেন। কিনে নিলেন সেখানকার বেশকিছু কোলিয়ারি। লাভের টাকার একটা বড় অংশ দিয়ে শুরু করলেন দুর্গাপুজো। শৌখিন শিবকৃষ্ণ বাবু নিজে যেমন সাজতে ভালোবাসতেন তেমনি তাঁর বাড়ির মা দুর্গাকেও সাজাতেন মনপ্রাণ ঢেলে। তামা ও পিতলের তৈরী ধাতুর পাতের সাজ সেযুগে বানিয়ে আনা হতো জার্মানি ও ফ্রান্স থেকে। সেকালে লোকমুখে শোনা যেত এবাড়িতে মা আসতেন গয়না পরতে।

জোড়াসাঁকো অঞ্চলে অবস্থিত শ্রীযুক্ত বাবু শিবকৃষ্ণ দাঁয়ের বসতবাটি

দুর্গাপুজো এখানে হয় বৈষ্ণব মতে। বিষ্ণুর উপাসক শিবকৃষ্ণ দাঁযের জ্যেষ্ঠপুত্র পূর্ণচন্দ্র দাঁ ১২৯৭ সনের ২১ শে জ্যৈষ্ঠ ( ১৮৯০ সাল ) বেলুড়ের কাছে গঙ্গার তীরে অনেকটা দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দিরের আদলে তৈরী করেন একটি নবরত্ন মন্দির , ছয়টি শিবমন্দির সহ একটি নয়নাভিরাম রাসমঞ্চ সঙ্গে একটি ক্লক টাওয়ার।

মন্দিরে পূজিত হন রাধারমণ জিউ সঙ্গে শ্রীরাধিকা। লোকমুখে এটি বেলুড় রাসবাড়ি নাম পরিচিত| এখানে মহাধুমধামে দোল ও রাস উৎসব পালিত হয়।

 

রাসযাত্রার সময় অধিবাস থেকে গোষ্ঠ পর্যন্ত ৪ দিন ব্যাপী আনন্দযজ্ঞে ভক্তদের সঙ্গে একাত্ম হন ভগবান স্বয়ং।

রাসমঞ্চে অধিষ্ঠিত রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তি

সিস্টার নিবেদিতার একটি লেখায় স্বামীবিবেকানন্দের পদধূলিধন্য এই রাসবাড়ির উল্লেখ আছে | রাস উৎসবকে কেন্দ্রকরে মন্দির সংলগ্ন অঞ্চলে রাসেরমেলা বসে | কলকাতা থেকে একটু দূরে অবস্থিত  এই রাসবাড়িতে বর্তমানে থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে |

যাঁরা রাতে থাকতে না চান তাঁদের জন্য , শুধু দিনে কয়েক ঘন্টার জন্য ঘুরে আসার ব্যবস্থাও রয়েছে |

গঙ্গাতীরস্থ বাগান ও বসার জায়গা

01CF74AE-398F-405C-B946-C548B4CD7B4F

সকাল হলেই এখানকার সব ঘর থেকে নদীর অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়।

 

বাড়ির সামনে সাজানো ফল ফুলের বাগান। পিছনেও আছে কেয়ারি করা ফুলের বাগান এবং সেখানে ক্যাফেটারিয়া।

উপরি পাওনা হিসেবে বাড়ির মন্দিরের নিত্যপুজো, আরাত্রিক ভজন ও নাম সংকীর্তনের সুর। আপনি যদি ভক্তিভাবাপন্ন হন তাহলে বাড়ির মন্দিরের নিত্যপুজো, আরাত্রিক ভজন ও নাম সংকীর্তনে অংশ নিতে পারেন। তা না হলে প্রাকৃতিক দৃশ্য আর ঐতিহ্যই উপভোগ করুন মন ভরে। 

আপনাদের মধ্যে যাঁদের জলপথে বেলুড় যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে তাঁরা হয়তো অনেকেই গঙ্গাবক্ষ থেকে বেলুড়ের মঠের অনতিদূরে এঅবস্থিত এই মন্দির দেখে থাকবেন | এবার না হয় একবার ঘুরেই আসুন| পারলে থেকে আসুন কটা দিন|

ব্যক্তিঋণ : পরিবারের সদস্য শ্রীঅতনু দাঁ এবং

শুভজিৎ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.