রান্না

আমভোগ

আম নিয়ে আমজনতার অন্তহীন আল্হাদের চিত্র বারংবার প্রতিফলিত হয়েছে বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকদের লেখায়। এই যেমন ধরুন –
” …. হরবল্লভও সন্ধ্যাহ্নিক সংক্ষেপে সারিয়া বজরায় আসিয়া উঠিলেন। দেখিলেন, নিশি ঠাকুরাণী ক্ষীর, ছানা, মাখন ও উত্তম সুপক্ক আম্র, কদলী প্রভৃতি ফল তাঁহার জলযোগের জন্য সাজাইতেছে। …” চেনা চেনা লাগছে ? লাগবেইতো, এ যে ‘দেবীচৌধুরানী’র নিশি।
আবার ,
“আমসত্ত্ব দুধে ফেলি
তাহাতে কদলী দলী …”
খেয়েছেন নিশ্চয় অনেকেই , আমাদের রবি ঠাকুরের মতো ?
এই সরস অমৃতফলকে নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করে যে একটা গোটা বই লেখা যায়, তা মাহবুব সিদ্দিকী’র লেখা ‘আম’ না পড়লে জানতেই পারতাম না।

বাজারে আম আসা শুরু হতে না হতেই আমার রান্নাঘরে আমের রসায়নের ওপর বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। গবেষণালব্ধ পদ গুলো হল আম-সন্দেশ , আমদই , আম-খণ্ড , আমের পাটিসাপটা , আমের সীরা বা আমের হালুয়া, আমের আইসক্রিম।
তবে , আজ আমার ‘আমায়নাগার’ থেকে এনেছি ‘আমভোগ’ বা আম-রসগোল্লা।

আমরসগোল্লা বা আমভোগ বানাতে লাগবে –
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

⭕উপকরণ :

✔️পদ্ধতি – ১
~~~~~~

দুধ – ১ লিটার
লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ
আমরস – ৩ টেবিলচামচ
চিনি – ১ টেবিলচামচ
নকুলদানা – যত গুলো রসগোল্লা বানাবেন তত গুলো

✔️পদ্ধতি – ২
~~~~~~
দুধ – ১ লিটার
লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ
আমরস – ২ টেবিলচামচ
সুজি – ১ টেবিলচামচ
চিনি – ১ টেবিলচামচ
নকুলদানা – যত গুলো রসগোল্লা বানাবেন তত গুলো

সুতি বা মলমলের কাপড়

✔️রসগোল্লার রস বানানোর জন্য –

১ কাপ চিনি ২ কাপ জল

⭕প্রস্তুত প্রণালী –
〰️〰️〰️〰️〰️〰️

✔️প্রথম পদ্ধতিতে দুধ ফুটতে শুরুকরলে তাতে আগে থেকে ছেঁকে নেওয়া আমরস বা ম্যাংগো পাল্প মিশিয়ে দিতে হবে। এবার লেবুর রস মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে ফুটন্ত অবস্থাতেই সামান্য ঠাণ্ডা জল দিতে হবে। এতে ছানা তাড়াতাড়ি কাটে ও নরম থাকে।

এবার এই ছানাটা সুতির কাপড়ে ভালোভাবে চেপে চেপে ছেঁকে নিয়ে আধ ঘন্টা ওই অবস্থায় রেখে দিতে হবে যাতে জল একেবারেই না থাকে।

এবার ছানাটা ১চামচ চিনি মিশিয়ে হাতের তালু দিয়ে একটা ফ্ল্যাট ট্রে বা বড় থালাতে ছানাটা ঠেসে নিয়ে মোলায়েম করে নিতে হবে।

এবার ছানা রসগোল্লার গোল্লা বানানোর জন্য একেবারে তৈরী।

✔️দ্বিতীয় পদ্ধতিতে

দুধ ফুটলে তাতে লবুর রস ও ঠাণ্ডা জল দিয়ে ঠিক আগের পদ্ধতি অনুযায়ী ছানা কাটিয়ে কাপড়ে মুড়ে ছেঁকে নিয়ে আধ ঘন্টা রেখে তাতে আম রস ও সুজি মেশাতে হবে।

এবার মিশ্রণটা আধ ঘণ্টা মতো ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে যাতে মিশ্রণটা একটু শক্ত হয়ে যায়।

ফ্রিজ থেকে বেরকরে নিয়ে প্রথম পদ্ধতির মতো করে হাতের তালু দিয়ে ঠেসে মোলায়েম করে নিতে হবে।

এখন ছানা গোল্লার জন্য তৈরী।

গোল্লা বানানোর জন্য ছানার ছোট ছোট বল বানিয়ে নিয়ে তার মধ্যে একটা করে এলাচদানা বা নকুলদানা পুরে দিয়ে গোল্লাগুলো হাতের তালু দিয়ে মসৃন করে নিতে হবে। এর ফলে রসগোল্লা তৈরী হওয়ার সময় ভেতরের এলাচদানা গরমে গোলে গিয়ে রসগোল্লার পেটের ভেতর একটা ফাঁকা গর্ত তৈরী করে এবং রসগোল্লা রসে টইটুম্বুর হয়। 🙂

সব রসগোল্লা একসাথে তৈরী করে নিয়ে ফুটন্ত রসে ফেলে ঢাকা দিয়ে ১০মিনিট ফোটালেই তৈরী আম রসগোল্লা বা ‘আমভোগ’।

রস তৈরীর জন্য চিনি ও জল মিশিয়ে 10 মিনিট ফোটাতে হবে।

অনেকে রসে ছোট এলাচ অথবা কেশর দেন এক্সট্রা ফ্লেভার যোগ করার জন্য। কিন্তু আমার মনেহয় এটা যখন আম-রসগোল্লা , তখন আমের নিজস্ব গন্ধটাই বেশি ভালোলাগবে।

আমভোগ বা আমি-রসগোল্লা