গল্প

টালিগঞ্জের বড় রাসবাড়ি ও ছোটো রাসবাড়ি ( বাওয়ালীর মণ্ডলদের প্রতিষ্ঠিত )

বাওয়ালীর মণ্ডলদের প্রতিষ্ঠিত বড় রাসবাড়ির রাধা-মদনমোহন বিগ্রহ
বাওয়ালীর মণ্ডলদের প্রতিষ্ঠিত বড় রাসবাড়ির রাধা-মদনমোহন বিগ্রহ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাওয়ালি রাজাপরিবারের বহু দেবত্র সম্পত্তি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তারাতলার মোড় থেকে শুরু করে বজবজ হয়ে বাওয়ালির মোড় পর্যন্ত। এর পর বাঁ দিকে বাঁক নিয়ে অর্থাৎ টালিগঞ্জের দিকে রয়েছে মণ্ডলদের প্রাসাদোপম বসতবাটি আর একগুচ্ছ মন্দির। গোবিন্দজী এবং লক্ষ্মী-জনার্দনের মন্দির, দ্বাদশ শিবমন্দির এবং তৎসংলগ্ন কয়েকটি স্নানের ঘাট। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল গৃহদেবতার নামে তৈরি গঙ্গাগোবিন্দের ঘাট ও গোপালজীউয়ের ঘাট।

বাওয়ালীর মণ্ডলদের প্রতিষ্ঠিত বড়ো রাসবাড়ি
বাওয়ালীর মণ্ডলদের প্রতিষ্ঠিত বড়ো রাসবাড়ি
বাওয়ালীর মণ্ডলদের প্রতিষ্ঠিত ছোট রাসবাড়ি
বাওয়ালীর মণ্ডলদের প্রতিষ্ঠিত ছোট রাসবাড়ি

দক্ষিণ কলকাতার চেতলার কাছে ৭৮ টালিগঞ্জ রোডে রয়েছে বাওয়ালির মণ্ডলদের বড় রাসমন্দির এবং ৯৩ টালিগঞ্জ রোডে ছোট রাসমন্দির , এদুটি মন্দির স্থানীয় লোকমুখে বড় রাসবাড়ি ও ছোট রাসবাড়ি নামে প্রসিদ্ধ।

বাওয়ালীর মণ্ডলদের প্রতিষ্ঠিত বড় রাসবাড়ির নাটমন্দির
বাওয়ালীর মণ্ডলদের প্রতিষ্ঠিত বড় রাসবাড়ির নাটমন্দির

১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে বাওয়ালীর জমিদার উদয়নারায়ণ মন্ডল একটি দক্ষিণমুখী বৃহৎ আটচালা মন্দির তৈরী করে রাধা-মদনমোহনের যুগল বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন, যা “বড় রাসবাড়ি ” নামে পরিচিত।

বাওয়ালীর মণ্ডলদের প্রতিষ্ঠিত বড় রাসবাড়ির রাধা-মদনমোহন বিগ্রহ

আবার এই পরিবারেরই প্যারীলাল মনমোহন মন্ডল ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে আদিগঙ্গার তীরে একটি নবরত্ন শৈলীর মন্দির নির্মাণ করে গোপাল জীউয়ের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন যা ছোট রাসবাড়ি নামে প্রসিদ্ধ।
মন্দির গুলিতে প্রাচীন স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শনের চোখে পড়ে। তবে সরকারি দাক্ষিণ্যে “গ্রেড ওয়ান হেরিটেজ” এর তকমা পেলেও দুটি মন্দিরেই দীর্ঘ অবহেলার ছাপ সুস্পষ্ট। বিভিন্ন পালাপার্বণে কেবল ক’দিনের জন্য জেগে ওঠে বাওয়ালির এই রাসবাড়ি বা রাসমন্দির গুলি।

বড় রাসবাড়ির ভাণ্ডার-ঘর ও তৎসংলগ্ন ভোগঘর
বড় রাসবাড়ির ভাণ্ডার-ঘর ও তৎসংলগ্ন ভোগঘর

মণ্ডল পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে ছোটবেলা বহুবার গেছি ছোট রাস পুর্ণিমার দিন ছোটো রাসবাড়ির রাস উৎসবে। বেশ কয়েকদিন ধরে মন্দির প্রাঙ্গনে মেলা বসে। উৎসবে মেতে ওঠে গোটা অঞ্চলের মানুষজন।
পুরো মন্দির আলোকমালায় সুসজ্জিত হয় , মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বেরিয়ে বিগ্রহ সেদিন ভক্তের ভগবান রূপে অষ্টসখিপরিবৃত হয়ে মন্দিরপ্রাঙ্গনে রাস লীলায় মেতে ওঠেন।