গল্প

মনের কথা – 2

আজ সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার । তবে তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না; বরং বেশ ভালই লাগে ।
এখন বিকেল , আমি বারান্দায় বসে। কোলের ওপর একটা বই খোলা রয়েছে , অনেকক্ষণের চেষ্টায় একটা করে পাতা পড়ছি আর চোখ চলে যাচ্ছে মেঘলা আকাশ আর ফাঁকা রাস্তার দিকে। মনে হচ্ছে … এই শুনশান রাস্তা দিয়ে যদি এক্ষুনি একটা ফুচকাওয়ালা বা কুলফিমালাইওয়ালা হেঁকে যেত …..

মনে পড়ছিল ছোটবেলা স্কুল থেকে ফিরে খাওয়াদাওয়া সেরে নিয়ম করে কিছুক্ষণ আমাদের দোতলার বারান্দাটায় বসতাম আকাশ দেখতে…. লোকজন দেখতে। রোজ বিকেলে মাথায় একটা লাল কাপড়ে জড়ানো মাটির হাঁড়ি করে কুলফি নিয়ে একজন কুলফিওয়ালা যেত। সে এমন সুর করে হেঁকে যেত যে ” কুলফিমালাই ….. ই ” কথাটাই শুনে মনেহত যেন বলছে – ” এ…. দে… না… ই … ” । অনেক ফেরিওয়ালারাই এরকম নিজস্ব অদ্ভুত সুরে হেঁকে যেত দেখতাম । মনে আছে যেদিন যেদিন মায়ের কাছথেকে কুলফি খাওয়ার ছাড়পত্র পেতাম সেদিন সেদিন লাল সিমেন্টের সিঁড়িটা দিয়ে প্রায় নাচতে নাচতে নামতাম কুলফি কিনতে। ৫ টাকা , ৭ টাকা আর ১০ টাকা এই তিন রকমের দামের কুলফিমালাই থাকত ওই হাঁড়িতে। আমাকে দাম নিয়ে কেউ কিছু বলে দিতনা কখনোই , তা সত্ত্বেও আমি বরাবর ৭ টাকার দুটো কুলফি কিনতাম আমার আর মায়ের জন্য , ছোটবেলা থেকেই মধ্যবিত্ত মানসিকতা সযতনে লালিত হচ্ছিল অন্তরে।
এখনকার বাচ্চাদের আকাশ দেখার সুযোগ বা ইচ্ছে কোনোটাই নেই , এসব তাদের কাছে বিলাসিতা । আর হাতে টাকা থাকা সত্ত্বেও Baskin-Robbins ছেড়ে ৫ টাকার ‘ কাঠি আইসক্রিম ‘ খাবে এমন বোকা ও তারা নয়।