গল্প

দক্ষিণেশ্বরের কৃষ্ণকথা

20170425020209

চিত্র: জগমোহিনী রাধা ও শ্রী জগমোহনকৃষ্ণ

 

জন্মাষ্টমীর পরদিন সন্দোৎসব। দক্ষিণেশ্বরের রাধা-গোবিন্দের মন্দিরে বিশেষ পূজা ও ভোগ অনুষ্ঠান। সেই বিগ্রহের পূজারি ক্ষেত্রনাথ দুপুরে পুজোর পর পাশের ঘরে শয়ন দিতে নিয়ে যাচ্ছেন রাধা-গোবিন্দকে এমন সময় হঠাৎ পা পিছলে ক্ষেত্রনাথ পড়ে গেলেন। হাত থেকে পড়ে গিয়ে ভেঙে গেল গোবিন্দের একটি পা।মন্দিরে হইচই পড়ে গেল।
রানী রাসমণিকে খবর পাঠানো হলো। তিনি জামাতা মধুরামোহনকে বললেন – “বাবা, তুমি পণ্ডিতদের কাছ থেকে বিধি নাও, কীভাবে ওই বিগ্রহের পূজা করা হবে?” মথুরামোহন অনেক পণ্ডিতের সঙ্গেই পরামর্শ করলেন। তাঁরা বললেন, “ভাঙা বিগ্রহের পূজা হয়না ওই বিগ্রহকে অবিলম্বে গঙ্গায় বিসর্জন দিতে হবে। তার জায়গায় বসাতে হবে নতুন মূর্তি।” কিন্তু রানীর মন তাতে সায় দিল না। যে গোবিন্দকে এত দিন পূজা করা হয়েছে, তাকে বিসর্জন দিতে হবে?

গদাধরের কানে সে কথা যেতেই তিনি বললেন,- “সে কি কথা। কোনো জামাইয়ের যদি ঠ্যাং ভেঙে যায়, তাকে কি ফেলে দিতে হবে, না চিকিৎসা করাতে হবে। গোবিন্দ নিতান্ত আপন। সেই আপনজনকে ফেলে দেব কেন? আমিই ঠাকুরের পা জোড়া লাগিয়ে দিচ্ছি।”
একথা শুনে রানীমার মনের চিন্তা দূর হয়ে গেল। তিনি বললেন, ছোট ভট্টাচার্য যা বলেছেন তাই হবে। গদাধর মাটি দিয়ে সুন্দরভাবে জুড়ে দিলেন গোবিন্দের পা। বোঝাই গেল না যে পা ভেঙে গিয়েছিল। সেই মূর্তিই সিংহাসনে বসানো হলো।

পরবর্তীকালে শ্রীরামকৃষ্ণ এই মন্দিরে কিছুকাল পূজা করেন। এখানে রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহদ্বয়ের নাম শ্রীশ্রীজগমোহিনী রাধা ও শ্রীশ্রীজগোহন কৃষ্ণ

20170425021151

চিত্র: এই মূর্তিরই ভাঙা পা শ্রীরামকৃষ্ণ জুড়ে দিয়েছিলেন

। নিত্য পূজা ও নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। স্নানযাত্রা, ঝুলন, জন্মাষ্টমী, রাস প্রভৃতি দিনে বিশেষ পূজার ব্যবস্থা আছে। এই মন্দিরের বামদিকের ঘরে যে একক কৃষ্ণমূর্তি রয়েছে, সেই মূর্তিরই ভাঙা পা শ্রীরামকৃষ্ণ জুড়ে দিয়েছিলেন। ১৯২৯ খ্রীষ্টাব্দে এই মূর্তির জোড়া দেওয়া অংশটি অঙ্গরাগের সময় দ্বিতীয়বার ভেঙে যাওয়ায়, ১৯৩০ খ্রীষ্টাব্দে নূতন মূর্তি শ্রীশ্রীরাধাবিগ্রহের সঙ্গে স্হাপন করা হয়।