গল্প

সাউথ পার্কস্ট্রিট সিমেট্রি

কথায় বলে “বই আর বৌ একবার হাতছাড়া হলে আর ফেরে না”, ‘কলকাতায় ফেলুদা’ বইটা হারিয়ে যাওয়ার বেশকিছু বছর পরও তার ব্যাথা এবং ওই কথাটার অর্থ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি , কিন্তু ‘গোরস্থানে সাবধান’ মুভিটা দেখার পর পুরোনো ব্যাথাটা বুকের মধ্যে আবার চাগার দিয়ে উঠলো,
কলেজ স্ট্রিট গিয়ে কিনে আনলুম বইটা , ঠিক হলো ভাইবোনেরা সবাইমিলে ঘুরে আসবো একবার সাউথ পার্ক স্ট্রিট সেমেট্রি 😊

কলকাতা শহরের এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে রাতবিরাতে চলে অলৌকিক সব কর্মকাণ্ড ও প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটিস। নিমতলা, ক্যাওড়াতলা শ্মশান ঘাট খানিকটা আলোময় দেখালেও শহরের প্রাচীন সিমেট্রি ও কবরখানাগুলো কিন্তু এখনো অন্ধকারাচ্ছন্ন। সাউথ পার্কস্ট্রিট সিমেট্রি তেমনি একটি গোরস্থান। প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৭৬৭ সালে। আবছা অন্ধকার, স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল আর ঘন গাছপালায় ঘেরা গোরস্থানে গেলেই গা ছম ছম করে ওঠে। এখানে ব্রিটিশ সৈনিকের কবর সবচেয়ে বেশি। বলা চলে সাহেবি গোরস্থান। শোনা যায়, রাত হলেই নাকি কফিন থেকে জেগে ওঠে শত বছরের পুরনো আত্মা।

সত্যি কি ওরা ভয়দেখায় ? নাকি কোনো না বলা কথা বলতে চায় !! গেট দিয়ে ঢুকে সোজা এগোলে দুধারে সারিসারি টুম্ব গুলোর মধ্যে একটা তে চোখ আটকে গেলো ….
একটা ১৭ বছরের সৈনিকের কবর ….
নিজের দেশ থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে একটা অজানা দেশ অচেনা মানুষজন … মারা যাবার সময় আপনজনদের মুখ গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল নিশ্চই , অনেক না বলা কথা চাপা কষ্ট গোরস্থানের বাতাসটাকে ভারি করে তুললো …….