গল্প

ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি

 

বৌবাজার স্ট্রিট ও চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের সংযোগ স্থলে ২৪৪ নং, বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিটে অবস্থিত প্রাচীন ফিরিঙ্গিকালীর মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে বিতর্ক আছে। যদিও মন্দিরের সামনের দেওয়াল ফলকে লেখা আছে, “ওঁ শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী কালীমাতা ঠাকুরাণী/ স্থাপিত ৯০৫ সাল, ফিরিঙ্গী কালী মন্দির”। এর থেকে অনুমান করা হয়, মন্দিরটি ৯০৫ বঙ্গাব্দে স্থাপিত হয়েছিল। মন্দিরটি প্রথমে ছিল শিব মন্দির।
কিংবদন্তী অনুসারে জানা যায়, কোনও এক নমঃশুদ্র এখানকার কালী মূর্তিটির প্রতিষ্ঠাতা। পরে শ্রীমন্ত পণ্ডিত নামে এক ব্রাহ্মণ “শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী কালীমাতা ঠাকুরানি”-র দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। ১৮২০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শ্রীমন্ত পণ্ডিত এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ছিলেন। তিনি নিঃসন্তান হওয়ায় ১৮৮০ সালে শশিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৬০ টাকায় দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে মন্দিরটি বিক্রি করে দেন। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এখনও মন্দিরের সেবায়েত।

এক সময়ে এই অঞ্চলে বহু ইউরেশিয়ান থাকতেন। জনশ্রুতি, তারা প্রায়শই হাম , বসন্ত , কলেরা প্রভৃতি রোগে ভুগতেন এবং দৈব প্রতিকারের জন্য স্হানীয় দেবস্হানে পুজো দিতেন। সম্ভবত এই কারণেই মন্দিরটি লোকমুখে ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। বর্তমান মূর্তিটি কংক্রিটের তৈরি। কালীপুজোর রাতে পঞ্চমুণ্ডীর আসনে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণমুখী এই সিদ্ধেশ্বরী কালীর পুজো দেখতে প্রচুর লোক আসেন।